আন্তর্জাতিক মানের আইটি প্রফেশনাল তৈরিই স্টুডেন্ট ফোরামের মূল লক্ষ্য: অপু – See more at: http://www.priyo.com/2015/01/19/128939.html#sthash.afbpuj2P.dpuf

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিকমানের আইটি প্রফেশনাল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বেসিস শুরু করতে যাচ্ছে ‘বেসিস স্টুডেন্ট ফোরাম’। খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বেসিসের এই উদ্যোগ। স্টুডেন্ট ফোরাম নিয়ে প্রিয়.কমের মুখোমুখি হয়েছিলেন বেসিসের পরিচালক এবং বেসিস স্টুডেন্ট ফোরামের আহ্বায়ক আরিফুল হাসান অপু। সাক্ষাৎকারে তিনি স্টুডেন্ট ফোরামের অগ্রগতি এবং বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহাদাত হোসেন

প্রিয়.কম: প্রথমেই আপনার কাছে সংক্ষেপে বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম সম্পর্কে জানতে চাই।
আরিফুল হাসান অপু: বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের কথা বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হবে বেসিস প্রেসিডেন্ট শামীম আহসানের কথা। কেননা তিনিই প্রথম শিক্ষার্থীদের দক্ষ আইটি প্রফেশনাল হিসেবে গড়ে তুলতে এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরির পরিকল্পনা করেছেন। কারণ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে দক্ষ আইটি প্রফেশনালদের কোন বিকল্প নেই।

প্রিয়.কম: স্টুডেন্টস ফোরাম তৈরির মূল উদ্দেশ্য কী?
আরিফুল হাসান অপু: এই স্টুডেন্টস ফোরাম তৈরির পেছনে দুটি মূল উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, স্থানীয় আইটি শিল্পে যে বিপুল পরিমাণ দক্ষ পেশাজীবী প্রয়োজন, সে চাহিদা পূরণ করা যাবে এর মাধ্যমে। বর্তমানে বেসিসের ৮০০ এর বেশি সদস্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে এসকল প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদের চাহিদা পূরণ হবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হবে। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে এই প্ল্যাটফর্ম থেকে তৈরি করা হবে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ আইটি প্রফেশনাল। তাঁদের মধ্য থেকেই পাওয়া যাবে নতুন আইটি উদ্যোক্তা। তারা বিশ্বের যেকোনো স্থানে গিয়ে প্রতিযোগিতা করার মত যোগ্যতা রাখবে। এছাড়া ২০১৮ সালের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে আমাদের। আর এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বেসিসের এই উদ্যোগ।

প্রিয়.কম: এখন পর্যন্ত আপনারা কতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু করেছেন?
আরিফুল হাসান অপু: প্রায় ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের কমিটি গঠন হয়েছে। বাকি পাবলিক ও প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শেষে আমরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও তারপর কলেজগুলোতে বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম গঠন করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী স্টুডেন্টস ফোরামের সদস্য হওয়ার জন্য অনলাাইনে আবেদন করেছে।

প্রিয়.কম: স্টুডেন্টস ফোরামে নারী শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার কোন পরিকল্পনা আছে?
আরিফুল হাসান অপু: স্টুডেন্ট ফোরামে নারী শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে বেসিসের। আর তাই স্টুডেন্ট ফোরামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাপ্টার কমিটিতে ৭ জন নির্বাহী সদস্যের মধ্যে ২ জন নারী শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রিয়.কম: স্টুডেন্টস ফোরামের সাথে যুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বেসিসের পক্ষ থেকে কি কোন ধরণের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে?
আরিফুল হাসান অপু: হ্যাঁ, বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের সদস্যদের জন্য বেসিসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বেসিসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরণের সেমিনার এবং মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে যেখানে উপস্থিত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সাথে সংশ্লিষ্টরা ছাড়াও অন্যান্য খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গও থাকবেন। সারা বছর ধরেই চলবে এসকল সেমিনার। এর মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা পাবে এবং সেভাবেই নিজেদের তৈরি করতে পারবে। এর বাইরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন দেশে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বেসিস।

প্রিয়.কম: এছাড়া শিক্ষার্থীরা বেসিসের কাছ থেকে আর কী ধরণের সাপোর্ট পাবে?
আরিফুল হাসান অপু: বেসিসের স্টুডেন্টস ফোরামের সাথে যুক্ত শিক্ষার্থীরা বেসিসের কাছে আরও বিভিন্ন ধরণের সহযোগিতা পাবে। তাঁদের শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তৈরি করা বিভিন্ন প্রজেক্টে সহযোগিতা কিংবা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট, সব ধরণের সাপোর্টই দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বেসিসের পক্ষ থেকে।

প্রিয়.কম: স্টুডেন্টস ফোরামের সদস্যরা যদি ভবিষ্যতে নিজেরাই তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোক্তা হতে চায়, সেক্ষেত্রে বেসিসের পক্ষ থেকে কতটুকু সহায়তা পাবে?
আরিফুল হাসান অপু: এ ক্ষেত্রে বেসিসের পক্ষ থেকে তাঁদের শতভাগ সহায়তা দেওয়া হবে। বেসিসের প্রেসিডেন্ট শামীম আহসান নিজেও জানিয়েছেন যে, ইনোভেটিভ উদ্যোক্তাদের জন্য ফিনান্সিয়াল সাপোর্ট কিংবা বিনিয়োগ, সব ক্ষেত্রেই সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি নিজেও সিলিকন ভ্যালী ভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম ফেনক্সের পার্টনার। আর এই প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণা করেছে এবং এরই মধ্যে বিনিয়োগ শুরু করেছে। এছাড়াও আরও বেশ কিছু বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা করে যাচ্ছে বেসিস। অর্থাৎ কোম্পানি গঠন থেকে আর্থিক বিনিয়োগ, সকল সহায়তাই করা হবে বেসিসের পক্ষ থেকে।

প্রিয়.কম: বেসিস স্টুডেন্ট ফোরামের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
আরিফুল হাসান অপু: বর্তমানে কেবল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফোরামের কার্যক্রম শুরু করলেও সামনের দিকে কলেজ এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এই কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া স্টুডেন্ট ফোরামের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে বেসিসের।

– See more at: http://www.priyo.com/2015/01/19/128939.html#sthash.afbpuj2P.dpuf

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s