‘ইন্টারনেটকেন্দ্রিক ব্যবসাগুলো ম্যারাথন দৌড়ের মতো’

তিনি ইন্টারনেটে চাকরির খবর প্রকাশ করেন। সহজ করে বললে, তিনি দেশের প্রথম জব পোর্টাল ‘বিডিজবস‘ -এর স্বপ্ন দ্রষ্টা এ কে এম ফাহিম মাশরুর। যে সময় দেশে খবরের কাগজ ছিল চাকরি খোঁজার একমাত্র মাধ্যম সে সময়ে তিনি বিডিজবসের মাধ্যমে ইন্টারনেটে চাকরির খবর প্রকাশ চারদিকে হৈচৈ ফেলে দেন।

শুধু চাকরির খবর দিয়েই তিনি সন্তুষ্টু থাকেননি। প্রার্থীকে চাকরির ‘উপযুক্ত’ করে তৈরি করতে প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকেন। ই-কমার্সের দুনিয়ায়ও তার পা পড়েছে। গড়ে তুলেছেন অাজকের ডিল ডট কম। সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় তিনি তৈরি করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বেশতো ডট কম

শুধু ইন্টারনেটভিত্তি বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেই তিনি নিজের ‘কাজ’ শেষ করেননি। নেতৃত্বে এসেছেন সফটওয়্যার ও সেবা পণ্যের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস)। দুইবারের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন তিনি।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হিটলার এ. হালিম

বাংলা ট্রিবিউন: যে সময়ে খবরের কাগজ ছিল চাকরি খোঁজার একমাত্র মাধ্যম সে সময়ে অাপনি ইন্টারনেটে চাকরির খবর প্রকাশ করে একটা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। এই ধারণাটা আপনি কীভাবে পেলেন?

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: বাংলাদেশের জন্য আইডিয়াটা নতুন হলেও বিদেশে চাকরির খবর সংক্রান্ত ওয়েবসাইট আগে থেকেই ছিল। পশ্চিমা বিশ্বে যেখানে আগে ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু হয়েছে সেখানে জব সাইট, অনলাইন জব মার্কেট ছিল।

আমরা বিডিজবস শুরু করি ২০০০ সালে। সেই সময়ে বাংলাদেশে ইন্টারনেট কেন্দ্রিক যা কিছুই করি না কেন তা ছিল নতুন। শুরুর দিকে ঢাকার কিছু মানুষ ডায়ালআপ দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করত। ব্রডব্যান্ড ছিল না, মোবাইল ইন্টারনেটও ছিল না। বিশ্বে ওই সময় মোটমুটি একটা শোরগোল পড়েছিল ইন্টারনেট নিয়ে। শিল্প বিপ্লব বিশ্বে যে রকম পরিবর্তন এনেছিল, ধারণা করা হচ্ছিল অদূর ভবিষ্যতে ইন্টারনেট বিশ্বব্যাপী বিশাল পরিবর্তন আনবে।

আমরা ভাবলাম বাংলাদেশে ‘টু-ডে অর টু-মরো’ ইন্টারনেট হবেই তখন অনেক নতুন সেবা, ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি হবে। তখন দেশের বাজার ই-কমার্স বা ইন্টারনেটের জন্য প্রস্তুত ছিল না। আমরা জানার চেষ্টা করলাম দেশে ইন্টারনেট কারা বেশি ব্যবহার করে। দেখলাম, তরুণ প্রজন্মের বেশি আগ্রহ ইন্টারনেট নিয়ে। তখন তরুণদের ইন্টারনেট চাহিদা বিবেচনা করে আমরা দেখলাম চাকরি খোঁজা তাদের অন্যতম বড় ‘ডিমান্ড’। চাকরি খোঁজা আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটা বড় সমস্যা। তখন আমাদের মাথায় এলো ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান বের করা।

প্রথমদিকে আমরা বিনিয়োগ করে দীর্ঘদিন লেগে থেকেছি তার পর মুনাফা এসেছে। শুরুর দিকে কেউ টাকা দিয়ে চাকরির খবর নেবে বা পয়সা খরচ করে সাইটে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রার্থী খুঁজবে এমন সংস্কৃতির সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত ছিলাম না। আস্তে আস্তে আজকের অবস্থানে আসতে হয়েছে। আমদের মডেলটা ছিল এখানে পেমেন্ট করবে মূলত যারা চাকরি দেবেন তারা। শুরুর দিকে যেহেতু মার্কেটে খুব পরিচিত ছিলাম না, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীও কম ছিল, তাই আমরা প্ল্যান করলাম পত্রিকায় যত ধরনের চাকরির বিজ্ঞপ্তি আছে সেগুলো সংগ্রহ করে সাইটে আপ করা। তখন পত্রিকার সংখ্যা অবশ্য কম ছিল। আমরা সব পত্রিকা থেকে চাকরির খবর বিডিজবসে প্রকাশ করতে লাগলাম।

আমাদের দেশের অনেক ইন্টারনেট কোম্পানি আছে যারা শুরুর তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সব টাকা বিনিয়োগ করে ফেলে। পরে রেসপন্স পেতে দেরি হলে লোকসান গুনে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। আমাদের কিন্তু মাথায় ছিল সাফল্য পেতে সময় লাগবে। এজন্য প্রথম তিন বছর কিন্তু আমরা কোন মুনাফা অায়ের চিন্তা করিনি। আমরা জানতাম, সাফল্য আসতে চার-পাঁচ বছর লেগে যাবে। 

এই কাজে আমরা চাকরিদাতাদের কাছ থেকে কোনও টাকা নিতাম না। আস্তে আস্তে আমাদের সাইটের ওপর মানুষের নির্ভরশীলতা তৈরি হয়। ২০০৩-২০০৪ সালের দিকে আমরা প্রমাণ করলাম এই সাইটে অনেক চাকরি প্রার্থী, পেশাজীবীরা লগ-ইন করেন। তখন চাকরিদাতারা আমাদের পেমেন্ট দেওয়া শুরু করল। প্রথম তিন বছর আমরা কারোর কাছ থেকে কোনও পেমেন্ট নিইনি। আমরা চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে এখনও কোনও পেমেন্ট নিই না। আমাদের মডেলটাই ছিল ‘যারা চাকরির খবর দেবে তারাই পেমেন্ট (টাকা বা খরচ) করবে।

বাংলা ট্রিবিউন: প্রথম দিকে সাড়াটা কেমন ছিল?

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: শুরু করলাম আর হয়ে গেল, এই ব্যবসাটা এমন ছিল না। আজকাল অনেকে ভাবেন ইন্টারনেটে একটা কিছু শুরু করলাম পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে বিশাল কিছু হয়ে যাবে। এটা হয়তো কিছু ক্ষেত্রে হয়। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি ভালো এবং টেকসই কোনও মডেল দাঁড় করাতে সময় ও ধৈর্য লাগে, রাতারাতি হয় না।

নতুন একটা মাধ্যম হিসেবে বিডিজবসকে প্রতিষ্ঠা ও গ্রহণযোগ্যতা পেতে আমাদের দুই-তিন বছর লেগেছে। যেখানে প্রযুক্তি সম্পর্কে মানুষ জানে কম, ইন্টারনেটের ব্যবহার, বিস্তৃতি ও সুবিধা কম সেখানে ইন্টারনেট নির্ভর কোনও কিছু দাঁড় করাতে অবশ্যই সময় লাগবে। এজন্য নতুন মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে অামাদেরও সময় লেগেছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল সাইটকে চাকরি প্রার্থীদের কাছে আগে জনপ্রিয় করা। শুরুর পর প্রতি বছরই ১০০ ভাগ, ২০০ ভাগ করে ব্যবসায়িসক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এমন না যে আমরা একেবারে রাতারাতি শোরগোল ফেলে দিয়েছি। অভিজ্ঞতা বলে বাংলাদেশে ইন্টারনেট কেন্দ্রিক ব্যবসাগুলো ম্যারাথন দৌড়ের মতো। এখানে ধৈর্য্য ধরে পড়ে থাকতে হবে। মাথায় রাখতে হবে এই রাস্তাটা অনেক লম্বা। এমন না যে গন্তব্যটা খুব কাছে, এটি অনেক দূরে। এই দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে হবে।

আমাদের দেশের অনেক ইন্টারনেট কোম্পানি আছে যারা শুরুর তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সব টাকা বিনিয়োগ করে ফেলে। পরে রেসপন্স পেতে দেরি হলে লোকসান গুনে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। আমাদের কিন্তু মাথায় ছিল সাফল্য পেতে সময় লাগবে। এজন্য প্রথম তিন বছর কিন্তু আমরা কোন মুনাফা অায়ের চিন্তা করিনি। আমরা জানতাম, সাফল্য আসতে চার-পাঁচ বছর লেগে যাবে।

আমরা ফল পেয়েছি আমাদের ধারণা অনুযায়ী। প্রথম থেকে আমরা অল্প অল্প করে খরচ করে তিন বছর কোন মুনাফা ছাড়াই বিনিয়োগ করে গেছি। সব মিলিয়ে দশ-বারো লাখ টাকা আমরা বিনিয়োগ করেছিলাম। এই পরিমাণ অর্থ এক দিনে খরচ করিনি, তিন বছরে একটু একটু করে করেছি।

আমাদের দেশে অনেকেই বিদেশের অনেক মডেল ‘কপি পেস্ট’ করে করার চেষ্টা করে। হুবহু কপি পেস্ট না করে লোকালাইজড (স্থানীয়করণ) করাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিডিজবসের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বিদেশি একটা মডেলকে দেশে বাস্তবায়ন করা নিজেদের মতো করে। শুধু আইডিয়া নয়, প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাস্তবায়ন। যদিও আমরা আহামরি কোনও আইডিয়া নিয়ে কাজ করিনি। কিন্তু এটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করে সহজে মানুষের কাছে পৌঁছানোটাই ছিল চ্যালেঞ্জ। 

বাংলা ট্রিবিউন: দেশে ইন্টারনেট যে একদিন ‘বিজনেস হাব’ হবে এটা কি অাগেই বুঝেছিলেন?

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: আমার বিশ্বাস ছিল, বিশ্বে সম্ভব হলে এখানে কেন হবে না, অবশ্যই একদিন হবে। এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই শুরুটা করা। আমাদের দেশের জনগণকে প্রযুক্তি বা কোনও একটি বিষয়ে বুঝানো গেলে তারা আজ হোক বা কাল হোক এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়। আমাদের তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তি মনস্ক। বিশ্বে ইন্টারনেট নিয়ে কিছু হলে সেটি আমাদের দেশেও সম্ভব।

আমাদের দেশে অনেকেই বিদেশের অনেক মডেল ‘কপি পেস্ট’ করে করার চেষ্টা করে। হুবহু কপি পেস্ট না করে লোকালাইজড (স্থানীয়করণ) করাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিডিজবসের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বিদেশি একটা মডেলকে দেশে বাস্তবায়ন করা নিজেদের মতো করে। শুধু আইডিয়া নয়, প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাস্তবায়ন। যদিও আমরা আহামরি কোনও আইডিয়া নিয়ে কাজ করিনি। কিন্তু এটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করে সহজে মানুষের কাছে পৌঁছানোটাই ছিল চ্যালেঞ্জ।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি তো সবাইকে চাকরির খোঁজ দেন। বিষয়টি নিজে কীভাবে উপভোগ করেন?

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: এখন ৯০ ভাগ কোম্পানি চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনলাইনে দেয় আর অবশিষ্ট শতাংশ দেয় পত্রিকায়। আমার ব্যক্তিগত দর্শন হচ্ছে, ব্যবসা শুধু মুনাফার জন্য নয়। আমার মনে হয়েছে, যে ব্যবসা করি না কেন লক্ষ্য শুধু টাকা কামানো থাকবে না। যেন মানুষের উপকার করতে পারি, এটিই ছিল আমার অন্যতম লক্ষ্য। ইচ্ছে ছিল এমন একটা মডেল দাঁড় করাবো যার মাধ্যমে মানুষের উপকার হয় আর মুনাফা আসবে ‘বাই প্রোডাক্ট’ হিসেবে। কিন্তু জিনিসটা আমাকে তৈরি করতে হবে।

ফেসবুক যখন তৈরি তয় তখন জাকারবার্গ এটি ব্যবসা করার জন্য করেননি। এটি ছিল নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম। অার এখন ফেসবুক বিশ্বের অন্যতম বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দাঁড়িয়ে গেছে। আমাদের দেশে অনেক উদ্যোক্তা আছেন, যারা টাকা কামানোকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেন। আমার কাছে সবসময় মনে হয়েছে, ব্যবসার মুনাফা একটা ‘বাই প্রোডাক্ট’। আমদের মেইন অবজেক্টিভ হওয়া উচিৎ একটা ‘ভ্যালু’ কিছু তৈরি করা। তাই আমারও লক্ষ্য ছিল সমাজে একটা ‘ভ্যালু’ তৈরি করা।

ভাবলাম আমাদের হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে বেকার থাকছে। চাকরি নেই বলে যে বেকার থাকছে বিষয়টি কিন্তু এমন নয়। কোনও চাকরি প্রার্থী হয়তো কোথায় কীভাবে অাবেদন করবে এই তথ্যটি পাচ্ছে না। শুধু সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা না থাকার করণে অনেকে বেকার থাকেন। হয়তো সে কোনও একটি চাকরির জন্য যোগ্য কিন্তু তথ্য ঘটতির কারণে সঠিক সময়ে সঠিকভাবে নিজেকে চাকরি দাতার কাছে উপস্থাপন করতে পাচ্ছে না বা চাকরির অাবেদন করতে পারছে না। ফলে ওই প্রার্থী চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ফেসবুক যখন তৈরি তয় তখন জাকারবার্গ এটি ব্যবসা করার জন্য করেননি। এটি ছিল নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম। অার এখন ফেসবুক বিশ্বের অন্যতম বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দাঁড়িয়ে গেছে। আমাদের দেশে অনেক উদ্যোক্তা আছেন, যারা টাকা কামানোকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেন। আমার কাছে সবসময় মনে হয়েছে, ব্যবসার মুনাফা একটা ‘বাই প্রোডাক্ট’। আমদের মেইন অবজেক্টিভ হওয়া উচিৎ একটা ‘ভ্যালু’ কিছু তৈরি করা। তাই আমারও লক্ষ্য ছিল সমাজে একটা ‘ভ্যালু’ তৈরি করা।

এই ক্ষতি যে শুধু চাকরি প্রার্থীর তা কিন্তু নয়, এই ক্ষতি চাকরিদাতারও। কারণ বেশি সংখ্যক প্রার্থীর মধ্যে থেকে যোগ্য প্রার্থীদের বেছে নিলে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের ‘প্রোডাক্টিভিটি’ বাড়ে। আমরা যদি এমন একটা সার্ভিস প্লাটফর্ম তৈরি করে দিতে পারি যেটি চাকরিদাতা ও চাকরি প্রর্থীর মধ্যে একটা সংযোগ তৈরি করে দেবে। এটি হবে দুই পক্ষের মধ্যে একটি স্যোশাল নেটওয়ার্ক। এটির সামজিক একটা ভ্যালু আছে। আগে এটি ছিল না। আমি এমন কিছু একটা করলাম যাতে সমাজের মধ্যে পজিটিভ পরিবর্তন হচ্ছে। এটি আগে ছিল না, আমারা কিছু একটা করে চাকরির ক্ষেত্রে একটা পরিবর্তন এনেছি। আগে অনেক লোক বেকার থাকতো। আমাদের উদ্যোগের ফলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বা যখন তার চাকরি পাওয়ার কথা ছিল হয়তো তার এক-দুই বছর পর চাকরিটা পেত। ওই সময়টাকে আমরা কমিয়ে দিতে পারছি। আমাদের উদ্যোগে অনেক লোক তাদের জীবন পরিবর্তন করতে পারছে। এটি অমার কাছে অনেক গর্বের বিষয়।

বাংলা ট্রিবিউন: কত মানুষ বিডিজবসের মাধ্যমে চাকরি পেয়েছে?

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: আমরা হিসাব করে দেখেছি, গত ১৫ বছরে বিডিজবসের মাধ্যমে প্রায় ৭-৮ লাখ লোক চাকরি পেয়েছে। যেসব কোম্পানি আমাদের মাধ্যমে চাকরির বিজ্ঞাপন দেয় তাদের নিয়ে একটা সার্ভে করে আমরা এসব তথ্য পেয়েছি। এখন কোম্পানিগুলো সরাসরি আমাদের মাধ্যমেই চাকরি সংক্রান্ত কাজ করছে।

বাংলা ট্রিবিউন: এবার আপনার উদ্যোক্তা হওয়ার গল্পটা জানতে চাই?

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: পরিবারিকভাবে আমরা ব্যবসায়ী ছিলাম না। ব্যবসা অনেকে পারিবারিক ঐতিহ্য থেকে করে। আমার বাবা সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছি। স্বাভাবিকভাবে এই শ্রেণির একটা পারিবারিক সংস্কৃতি থাকে যে পড়াশুনা শেষ করে ভালো একটা চাকরি করতে হবে। আবার অনেকে আছে যারা পড়াশুনা করে না বলে ব্যবসা করেন।

আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স করেছি। আইবিএ থেকে এমবিএ করি। আমর সামনে অনেক ভালো অপশন ছিল চাকরিতে ঢোকার। আমি চাকরিতে ঢুকেওছিলাম এক-দেড় বছরের জন্য। আমার কাছে মনে হতো চাকরি ব্যাপারটা একটা নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। চাকরি দিয়ে ক্রিয়েটিভ কিছু বা নতুন কিছু করে সমাজে বিশেষ কিছু পরিবর্তন আনা খুবই কষ্টকর। কারণ, আমি যখন চাকরিতে ঢুকছি তখন ওই কোম্পানির নির্দিষ্ট ফ্রেমে বন্দি হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু যদি নিজে কিছু করি তাহলে স্বাধীনভাবে কাজ করার অপশনটা থাকে। এজন্য আমার উৎসাহ ছিল চাকরি না করে নিজে কিছু করে সমাজ পরিবর্তনে অবদান রাখা। সফল বা ব্যর্থ যে কোনওটিই হতে পারতো এক্ষেত্রে। ধৈর্য্যসহকারে লেগে ছিলাম।

বাংলা ট্রিবিউন: চাকরির তথ্য ছাড়া আপনারা তো প্রশিক্ষণও দেন। চাকরির খবরের সঙ্গে প্রশিক্ষণের যোগসূত্রটা কেমন?

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: আমরা প্রথমে শুরু করেছিলাম চাকরির খবর দিয়ে। একটা সময় আমরা খেয়াল করলাম, যারা চাকরি করছে বা চাকরি খুঁজছে তাদের বড় একটা সমস্যা হচ্ছে স্কিলের ঘাড়তি। এই সমস্যার কারণে অনেকে ভালো ক্যারিয়ার গড়তে পারে না। আমাদের অ্যাকাডেমিক পড়াশুনা খুবই ‘থিওরিটিক্যাল’ এবং পড়াশুনার সময় অ্যাপ্লাইড বা ব্যবহারিক বিষয়গুলো জানার সুযোগ কম থাকে। এসব বিবেচনা করে প্রায় ৭-৮বছর আগে আমরা ‘বিডিজবস ট্রেনিং’ নামে আলাদা একটা উইং তৈরি করি। যেখানে আমরা দক্ষতা বাড়াতে চাকরির ব্যবহারিক দিকগুলো নিয়ে ট্রেনিং করাই। এর আওতায় চাকরির ক্ষেত্রে কাজে লাগে এমন কিছু শর্টকোর্স, ওয়ার্কশপ আমরা চালু করি।

ধরুন, আমাদের দেশে যারা অ্যাকাউন্টিং, ফাইন্যান্স বা বিবিএ পড়ে তারা অনেক ক্ষেত্রেই থিওরি পড়ে। বিদেশি বইগুলো তাদের পড়ানো হয়। ফলে তারা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানলেও দেশে ওই বিষয়ের ব্যবহারিক ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে খুব বেশি জানে না। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাটাই এমন। এজন্য আমাদের কার্যক্রমে অ্যাকাডেমিক রিসোর্স পারসন না নিয়ে যার উচ্চ পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন তাদেরকে দিয়ে ট্রেনিংগুলো করিয়ে থাকি। এজন্য আমাদের বেশিরভাগ ট্রেনিংগুলো শুক্র ও শনিবার হয়। কারণ ছুটির দিনে অভিজ্ঞ চাকরিজীবী প্রশিক্ষকের মাধ্যমে আমরা প্রশিক্ষণ দিতে পারি।

আমাদের নীতি হচ্ছে যারা ইন্ডাস্ট্রিতে উচ্চপদে কাজ করেন তাদেরকে দিয়ে ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করা। তারা আসলে জানেন চাকরির ক্ষেত্রে কি কি দক্ষতা লাগে এবং ইন্ডাস্ট্রির বাস্তব অবস্থা প্রার্থীদের মাঝে পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপন করতে পারেন।

বাংলা ট্রিবিউন: এই প্রশিক্ষণের সাড়া বা ফিডব্যাক কেমন?

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: এই ট্রেনিং প্রোগ্রাম মুনাফার চেয়ে আমাদের ব্র্যান্ডিংয়ের কাজে বেশি লাগে। এছাড়া এটি আমাদের একটা গর্বের বিষয়, এই ট্রেনিং মানুষের দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি তো ই-কমার্সের সঙ্গেও জড়িত। এই খাতে আপনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাই।

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: ই-কমার্স এখন বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। সারা বিশ্বেই এখন ই-কমার্স ব্যাপকভাবে হচ্ছে। চীনে যত কেনাবেচা হয় তার ৮-১০ শতাংশ হয় অনলাইনে। ভারতে এই হার প্রায় ১-২ শতাংশ। এই অবস্থান নিশ্চয় একদিনে হয় নি। আজ থেকে ১০ বছর আগে হয়তো ইন্টারনেট একটা অপশন ছিল কিন্তু এখন এটি জীবনের অংশ হয়ে গেছে। ই-কমার্সও আমাদের জীবনের একটা অংশ হয়ে যাচ্ছে। আমেরিকায় যখন কেউ কিছু কিনতে যায় আগে অামাজনসহ অন্যান্য সাইটে সার্চ করে দেখে। শুধু অামাজনেই কয়েক কোটি পণ্য আছে এবং একটা প্লাটফর্মে এত ‘ভ্যারাইটি’ বাজারের দোকানে পাওয়া সম্ভব না। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মোবাইল, ইন্টারনেট যেমন ইউটিলিটি তেমনি ই-কমার্সও একটা ইউটিলিটি। বাংলাদেশের জন্য হয়তো এটি নতুন।

অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়- বিদেশের চেয়ে প্রায় পাঁচ-দশ বছর আমরা পিছিয়ে আছি। ইন্টারনেট, ই-কমার্স বা অন্যান্য প্রযুক্তি সেবাই বলেন আমাদের দেশে একটু পরে প্রতিষ্ঠা পায়। তবে এমন না যে বিদেশে আছে কিন্তু আমাদের দেশে হবে না। হবে তবে একটু সময় নিয়ে কিছুটা দেরিতে।

আমরা যখন বিডিজবস শুরু করি তখন একটা বা দু’টি প্রতিষ্ঠান এই খাতে কাজ করি। কিন্তু ই-কমার্সে অনেক বেশি উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। অনেকে ই-কমার্স সাইট করে ব্যবসা করছে আবার কেউ ফেসবুকের মাধ্যমে করছে। ভবিষ্যতে হয়তো দেশের ই-কমার্স সেক্টর একটা ‘ছাতার’ নিচে চলে আসবে। বাংলাদেশে অবশ্যই ই-কমার্স হবে। হয়তো এখন মোট কেনা-বেচার খুবই সমান্য অংশ ই-কমার্সে হচ্ছে, টাকার হিসেবে ৪০-৫০ কোটি হবে। আমরা হিসাব করে দেখেছি, দেশের কেনাকাটার যদি এক শতাংশও ই-কমার্সে হয় তাহলে এটি প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা হবে।

অনেক কিছু আবার আমাদের দেশে আগেও হয় এবং দ্রুতগতিতে। যেমন মোবাইলের প্রসার। অনেকেই হয়তো ভাবেন আমাদের দেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী কম এজন্য হয়তো ই-কমার্স পিছিয়ে আছে। আমরা দেখেছি এটার জন্য ই-কমার্স পিছিয়ে নেই। চীন বা ভারতে পেমেন্ট সিস্টেমটা একটা বড় ইস্যু না। প্রধান বিষয় হচ্ছে ক্রেতা অনলাইনে যা কিনছেন তা ঠিকমতো মান বজায় রেখে আমরা ঠিকমতো ডেলিভারি দিতে পারছি কি না। গত দুই-তিন বছরে দেশে পণ্য ডেলিভারির ক্ষেত্রে ব্যাপক একটা উন্নতি হয়েছে। এখন অনেক থার্ড পার্টি ডেলিভারিতে আসছে। এখন কেউ অনলাইনে অর্ডার করলে এক-দুই দিনের মধ্যে ডেলিভারি পেতে পারে। ঢাকার বাইরে একটু সময় বেশি লাগে, তিন থেকে পাঁচ দিন। গত ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এটি আরও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আমরা যখন বিডিজবস শুরু করি তখন একটা বা দু’টি প্রতিষ্ঠান এই খাতে কাজ করি। কিন্তু ই-কমার্সে অনেক বেশি উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। অনেকে ই-কমার্স সাইট করে ব্যবসা করছে আবার কেউ ফেসবুকের মাধ্যমে করছে। ভবিষ্যতে হয়তো দেশের ই-কমার্স সেক্টর একটা ‘ছাতার’ নিচে চলে আসবে। বাংলাদেশে অবশ্যই ই-কমার্স হবে। হয়তো এখন মোট কেনা-বেচার খুবই সমান্য অংশ ই-কমার্সে হচ্ছে, টাকার হিসেবে ৪০-৫০ কোটি হবে। আমরা হিসাব করে দেখেছি, দেশের কেনাকাটার যদি এক শতাংশও ই-কমার্সে হয় তাহলে এটি প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: বছরে মাত্র ৫০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করে দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে আছে কীভাবে?

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: আমি বলব না, সবাই খুব ভালো করছে। তিন-চার বছর হলো ই-কমার্স শুরু করেছে দেশে এরকম কোম্পানির সংখ্যা হতে গোনা। বেশিরভাগই নতুন কোম্পানি। অনেকে সাময়িক চ্যালেঞ্জের মুখে আছে। তবে এই খাতে অনেক বিদেশি বিনিয়োগ হবে। ই-কমার্সে আসলে বড় বিনিয়োগ দরকার। আমরা যেমন অল্প টাকায় বিডিজবস শুরু করেছিলাম ই-কমার্সে এটি সম্ভব নয়। ই-কমার্সে ভালো করতে হলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সক্ষমতা থাকতে হবে। অনেকের হয়তো বিদেশি বিনিয়োগ দরকার হবে। তবে বিদেশি বিনিয়োগ পেতে হলে কিছু নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে। সবাই তো আর বিনিয়োগ পাবে না।

যেসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের ম্যানেজ করতে পারবে তারা হয়তো বিদেশি বিনিয়োগ পেতে পারে। আমরা বিডিজবসের ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পেরেছিলাম। আমাদের সিস্টেম, ইন্টারন্যাল ম্যানেজমেন্ট প্রসেস, অ্যাকাউন্টের স্বচ্ছতা ভালো ছিল বলে বিনিয়োগ পাওয়া সহজ হয়েছে। একইভাবে ই-কমার্সে আমাদের যেসব কোম্পানির ইন্টারন্যাল ম্যানেজমেন্ট ভালো, ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টে স্বচ্ছতা থাকবে তারা হয়তো ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগ পাবে। ই-কমার্স ব্যবসাটা এমন যেখানে শুরুতে অনেক অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়।

বাংলা ট্রিবিউন: অাপনার তৈরি বাংলা ভাষায় প্রথম স্যোশাল নেটওয়ার্কিং সাইট ‘বেশতো ডট কম’ নিয়ে কিছু বলুন।

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: বেশতো ডট কম ইতিমধ্যে দেশের প্রথম ১০০ সাইটের মধ্যে চলে এসেছে। প্রায় দুই বছর হলো এই সাইট চালু হয়েছে। প্রায় এক লাখের মতো ভিজিটর আছে। উদেশ্য ছিল সম্পূর্ণ বাংলায় একটা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট তৈরি করা এবং বাংলায় লোকাল ইনফরমেশন সোর্সকে সমৃদ্ধ করা। আমাদের আশা একদিন বেশতো এমন একটা সাইট হবে যেখানে বাংলায় সব তথ্য পাওয়া যাবে। কিছুটা উইকিপিডিয়া টাইপের। বেশতোতে যারা ব্যবহার করে তারাই কনটেন্ট কন্ট্রিবিউট করেন। এটা একটা ক্রাউড সোর্স এবং একই সঙ্গে স্যোশাল মিডিয়া। বেশতোর সব কনটেন্ট সার্চেবল এবং এখানকার সব কনটেন্ট পাবলিক। ফেসবুকে কেউ কিছু পোস্ট করলে তার বন্ধুরা সেটা দেখতে পারে, সার্চ করতে পারে কিন্তু বেশতো একটা পাবলিক প্ল্যাটফর্ম। এখানে যে পোস্টই দেওয়া হোক না কেন যে কেউ তা বিশ্বের যেকোনও জায়গা থেকে সার্চ করতে পারে। বেশতো হচ্ছে ক্রাউড সোর্স স্যোশাল মিডিয়াভিত্তিক কনটেন্ট প্রভাইডার।

বাংলা ট্রিবিউন: ইন্টারনেট কেন্দ্রিক নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কি বলবেন।

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: সারাবিশ্বে এখন অনেক উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। দেশে মোবাইল ফোন কেন্দ্রিক অনেক কাজ হচ্ছে। এই খাতে আরও অনেক কাজ করার বাকি আছে। মোবাইলফোনের উপযোগী কনটেন্ট তৈরি এখন সময়ের দাবি। তরুণদের মধ্যে মোবাইল অ্যাপ নিয়ে কাজের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

শুধু মোবাইল অ্যাপ নিয়ে পড়ে থাকলেও হবে না। যেকোনও ওয়েবের জন্য আলাদাভাবে মোবাইল ‘ভার্সন’ তৈরিতে কাজ হওয়া উচিত। কারণ যেভাবে স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ছে তাতে কোনও সাইট যেন মোবাইল ফোনে সহজে দেখা যায়। সাধারণ মানুষের ব্যবহার উপযোগী সাইট ডেভেলপে কাজ করতে হবে। বিশ্বে প্রযুক্তি যেভাবে দ্রুত ‘আপডেটেড’ হচ্ছে তার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে তরুণ প্রজন্মকে চোখ-কান খোলা রেখে আপডেটেড হতে হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: কেমন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন?

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: সাধারণ মানুষের মতো আমিও একটা পজেটিভ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। আমরা বলছি দেশের তরুণ প্রজন্মই দেশের বড় শক্তি। এই শক্তিকে ব্যবহার করলে আমরা অবশ্যই দ্রুত সম্ভাবনাময় একটা জাতিতে পরিণত হব। জাপানের কোনও প্রাকৃতিক সম্পদ নেই কিন্তু আছে দক্ষ জনসম্পদ। আমাদের দেশেও জনসংখ্যা বড় সম্পদ হতে পারে। এই জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করাটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রযুক্তি একটা সুযোগ দিয়েছে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় করার জন্য। নতুন নতুন প্রযুক্তি দেশে আসছে এবং আমাদের তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তি সম্পর্কে বেশি আগ্রহী। আমেরিকাসহ উন্নত বিশ্ব শিল্প বিপ্লবের ফলে গত ১০০ থেকে দেড়শ’ বছরে আজকের অবস্থানে এসেছে। কিন্তু আমরা দেখেছি গত ১০ বছরে আমেরিকার সবচেয়ে সম্পদশালী দশটি কোম্পানির মধ্যে ৫-৬টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠন রয়েছে। এই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বয়সও খুব বেশি দিনের না। গুগল, ফেসবুক এগুলোর বয়স ১০-১৫ বছরের মধ্যে। এসব প্রতিষ্ঠান তরুণরাই তৈরি করেছে।

প্রযুক্তি ও তারুণ্যের কম্বিনেশনে উন্নতবিশ্বসহ সারাবিশ্বে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। বিলগেটস, জাকারবার্গ কারোর বাবাই কোটিপতি কিংবা ব্যবসায়িক ছিলেন না। তারা কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বে বিশেষ ভ্যালু তৈরি করেছে। যেখানে তারা নিজেরা ধনী হয়েছে অন্যদিকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। আমার মনে হয় এই সম্ভাবনা আমাদের দেশেও আছে। প্রযুক্তি ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সমন্বয় করে আমাদের দেশেও অনেক ভ্যালু তৈরি হতে পারে। এটি আমাদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুযোগ।

আশাকরি প্রযুক্তি সুবিধা কাজে লাগিয়ে তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই আগামীতে এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পাব।

বাংলা ট্রিবিউন: সময় দেওয়ার জন্য অাপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

এ কে এম ফাহিম মাশরুর: ধন্যবাদ বাংলা ট্রিবিউনকেও।

শ্রুতি লিখন: সোহেল রানা

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

/এইচএএইচ/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s